buniyadi ghee

বুনিয়াদী খাঁটি গাওয়া ঘি

buniyadi ghee

পান্তা ভাতে ঘি যতটা বেমানান, এক প্লেট গরম ভাতে এক চামচ ঘি ঠিক ততটাই সুস্বাদু। বাঙালির ইতিহাসে অনেক আগে থেকেই সুস্বাদু ঘি জায়গা করে নিয়েছে। দুধে ভাতে বেড়ে উঠা  পরিবারে ঘি ছিল একটি নৈমিত্তিক ব্যাপার।

এখন যদিও কালের বিবর্তনে রান্নায় ঘি এর প্রচলন কমে এসেছে। কিন্তু খাবারে ঘি এর উপস্থিতি, এর আবেদনকে ক্ষুন্ন করেনি আজও। ঘি তৈরীতে বরাবরের মতোই উত্তরবঙ্গের জেলা পাবনার সুনাম রয়েছে। আমাদের দেশে ইংরেজদের শাসনামল থেকেই পাবনাসহ বিভিন্ন  অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে দুগ্ধ উৎপাদিত হয়ে থাকে। এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রচুর পরিমাণে দুগ্ধজাত খাবারের চলও সেসব অঞ্চলে বেশী। 

ঘি তৈরীর জন্য সাধারণত দুধের ননি বা মাখন ব্যবহার করা হয়। দুধ থেকে পাওয়া লবনবিহীন মাখন নির্দিষ্ট তাপে জাল দিলে পাওয়া যায় খাঁটি গাওয়া ঘি। সেই ননি থেকে জাল দিয়ে যে ঘি বের করা হয় সেটি গুণগত মানের দিক থেকে নির্ভেজাল।

ঘি পুষ্টিগুণে গুণান্বিত

খাঁটি গাওয়া ঘি দিয়ে রান্না করা খাবারের চমৎকার স্বাদ আর সুঘ্রাণ ভোজনরসিকদের জন্য ভুলে থাকা কষ্টকর। চলুন জেনে নেই, ঘি তে থাকা পুষ্টি মানের মাত্রা। 

buniyadi ghee nutrition

ঘি এর উপকারিতা

রান্নায় ঘি এর ব্যবহার নিয়ে অনেকেই চিন্তায় থাকেন। কতটুকু ঘি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, ঘি খাওয়া আসলেই ঠিক কিনা এসব নিয়ে ভেবে ভেবে বঞ্চিত হচ্ছেন ঘি এর সুস্বাদ থেকে। আসুন তবে, কথা না বাড়িয়ে জেনে নেওয়া যাক ঘি খাবার উপকারিতা। কেনই বা ঘি খাওয়া দরকার!

  • ঘি এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি এসিড। ফ্যাটি এসিড শরীরের বিপাক ক্রিয়া ত্বরান্বিত করে। এতে হজম শক্তি ভালো হয়।
  • ঘি খেলে কোন রকম এলার্জি হয় না। অনেকের দুগ্ধজাত খাবারে এলার্জির প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু এ ব্যাপারে দুগ্ধজাত ঘি একদমই আলাদা।
  • এতে রয়েছে এক প্রকারের ফ্যাটি এসিডের যার নাম লিনলিয়েক এসিড। এটি ক্যান্সারের মত রোগ থেকেও কিছুটা সুরক্ষা দেয়।
  • মজার একটি তথ্য হলো, ঘি এর সুঘ্রাণ মনকে শান্ত করে। মনে এক ধরণের প্রশান্তি কাজ করে এর ঘ্রাণের কারণে। তাই, কখনো রেগে গেলে ঘি এর গন্ধ নিয়ে দেখতে পারেন।
  • অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যায় ভুগে থাকেন। কোষ্ঠকাঠিন্যের ফলে অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও দেখা দেয় ধীরে ধীরে। ঘি এক ধরণের প্রাকৃতিক লুব্রিকেটর। ঘুমাতে যাবার আগে এক কাপ দুধের সাথে এক চামচ ঘি মিশিয়ে গরম করে খেলে এই সমস্যা থেকে আরাম পাওয়া যায়।
  • গর্ভবতী মায়েদের সিজারিয়ান প্রসবের পর ঘি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। কারণ ঘিতে রয়েছে ক্ষত দ্রুত সারানোর উপাদান।
  • কোলেস্টেরল শরীরের জন্য খারাপ,- এটা কে না জানে? কিন্তু আপনি কি জানেন কোলেস্টেরল দুই ধরণের? একটা ক্ষতিকর এবং আরেকটা উপকারী কোলেস্টেরল। ঘি এর মধ্যে যে কোলেস্টেরল রয়েছে সেখানে উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশী।
  • মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাক এটা কে না চায়? দুগ্ধজাত এই খাবার খেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায় আবার স্মৃতিশক্তিও উন্নত হয়। কারণ এতে রয়েছে ওমেগা-৬। যা আমাদের মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য ভীষণ দরকারী।
  • খাঁটি গাওয়া ঘি আসলে ভিটামিনে ভরপুর। এতে কোন কোন ভিটামিন রয়েছে সে ব্যাপারে নিশ্চয়ই এতক্ষণে জেনে গেছেন। ঘি-তে রয়েছে ভিটামিন ‘কে’ যা শরীরের শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
  • ঘি-এ উপস্থিত ভিটামিন ‘ই’ চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করে দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখে। তাই ঘি মানেই যে শুধু সুঘ্রাণ তা নয়, এর উপকারিতাও অনেক।

এসব ছাড়াও ঘি এর রয়েছে আরো নানাবিধ পুষ্টিগুণ। শুধু তাই নয়, ত্বকের চর্চায়ও আপনি ঘি ব্যবহার করতে পারেন আরো বিভিন্নভাবে। চলুন সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেই। 

ত্বকের চর্চায়- ঘি

  • আপনার ত্বক কি শুষ্ক? যদি তাই হয়, তাহলে ঘি আপনি ব্যবহার করতে পারেন ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখার অস্ত্র হিসেবে। রাতে ঘুমাতে যাবার আগে এক চা চামচ ঘি সারা মুখে লাগাতে পারেন। পরদিন সকালে মুখ ধুয়ে নিলেই শুষ্ক ত্বক হয়ে যাবে মসৃণ ও কোমল।
  • ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে ঘি এর জুড়ি মেলা ভার। সকালে ঘি খেলে কর্মক্ষমতা তো বাড়েই, আবার ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। ঘি খেলে কোলাজেন নামক এক ধরণের প্রাকৃতিক প্রোটিন এর উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে এমনটা হয়।
  • রাতের ঘুমের অনিয়মের ফলে অনেকেরই চোখের নিচে কালি পড়ে। যার ফলে চেহারার সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়। রাতের বেলা অল্প একটু ঘি নিয়ে চোখের চারপাশে তুলা দিয়ে ম্যাসাজ করুন। সকালে উঠে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • চুল রুক্ষ ও মলিন হয়ে গেলে, তার সমাধানও প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই করা সম্ভব। আর তা হচ্ছে ঘি। মাথার ত্বকে ঘি মালিশ করলে চুল ঘন এবং উজ্জ্বল হয়।
  • অনেকের ঠোঁট ফাটে এবং রুক্ষতার জন্য চুলকানোর মতো সমস্যা সৃষ্টি হয়। তবে চিন্তা নেই। অল্প একটু ঘি নিয়ে ঠোঁটে মাখুন। ব্যস!

ঘি পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও, এটি নিয়ে মানুষের তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই। তবুও এখনো কালের বিবর্তনে ঘি বিলীন হয়নি। রান্নায় স্বাদ ও সুঘ্রাণ বহুগুণে বাড়ানোর জন্য ঘি এখনো হেঁশেলের অভিজাত্যের প্রতীক। কিন্তু, বাজার এখন সয়লাব ভেজাল, ডালডা মিশ্রিত ঘি-তে। আপনি কোথায় পাবেন আসল গাওয়া ঘি?

চিন্তা নেই। বুনিয়াদী আপনাদের ভরসা, আপনাদের বিশ্বাসে পাশে আছে সবসময়।

আমরাই কেন?

কারণ, গরুর খাঁটি দুধের ননী থেকে এই বুনিয়াদী ঘি তৈরী করা হয়। কোন রকমের রাসায়নিক বা ক্ষতিকর উপাদান যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর তা ব্যবহার করা হয় না। এই ঘি তে কোন ধরণের ডালডা মিশ্রিত নয়। তাই, ভিটামিন এবং উপকারী এসিডে ভরপুর বুনিয়াদী ঘি স্বাদে এবং ঘ্রাণেও অনন্য।

অর্ডার করুনঃ

আমাদের ওয়েবসাইটঃ www.buniyadi.com

আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ www.facebook.com/buniyadibd

হটলাইনঃ 09638-777999

Please follow and like us: