চুলের সৌন্দর্যে আমরা সুন্দর

সুন্দর চুল বলতে আমরা কি বুঝি? 

স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও মসৃণ? 

সুন্দর, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল এবং মসৃণ চুল কে না চায়?, কিন্তু এর জন্য দরকার চুলের প্রতি নিয়মিত যত্ন।
 চুল যে আমাদের চেহারা ও রূপের সৌন্দর্য বাড়াতে কতটা উপকারী তা বলে শেষ করা যাবে না। আবার শুধু যে সৌন্দর্য বাড়াতেই চুল সাহায্য করে তা কিন্তু না। চুল আমাদের ব্যক্তিত্ব বিকশিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   
আমাদের মধ্যে একটি ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে চুলের যত্ন কেবলমাত্র মেয়েদের নেওয়া জরুরি। অথচ সত্যিটা হচ্ছে, নারী পুরুষ নির্বিশেষেই চুলের যত্ন নেওয়াটা বেশ দরকারি। 
স্বাস্থ্যোজ্জ্বল মজবুত চুল যেমন আত্মবিশ্বাস জোগাতে সহায়তা করে তেমনি খুশকিমুক্ত চুল মাথার তালু শীতল রাখতেও সাহায্য করে।
এখন মূল প্রসঙ্গে আসি। আমরা কি কি উপায়ে চুলের সঠিক যত্ন নিতে পারব? 
বাজারের রাসায়নিক মিশ্রিত প্রসাধনী চুলের যত্নে ব্যবহার করার ফলে তাৎক্ষণিক উপকার পেলেও এর ফলে চুলের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি সাধিত হতে পারে। 
তাহলে চলুন, রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার এড়িয়ে এখন না হয় ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্ন নেওয়া হোক।  
প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে
শ্যাম্পুর তাৎক্ষণিক পরে কন্ডিশনার চুলে ব্যবহার করলে চুল নরম ও মসৃণ হয়। যদি সেই কন্ডিশনার প্রাকৃতিক হয় তাহলে তো এর উপকারিতা আরও বেড়ে যায়। সরিষার তেল প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে দারুণ কাজে দেয়। এই তেলে আলফা ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা চুল সুন্দর, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখে।
মধুও প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে গণ্য করা হয়। এক চামচ মধুর সঙ্গে দুই চামচ নারিকেল তেল মিশিয়ে রুক্ষ চুলে ভালোভাবে মালিশ করতে হবে। পনেরো মিনিট রেখে তারপর ভালোভাবে মাথা পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। এতে রুক্ষ চুলের সমস্যা থেকে পাবেন মুক্তি, এবং চুল হবে মসৃণ।  
চুল পড়া রোধে 
চুল পড়ার সমস্যায় ভুগে থাকলে আপনার দরকার খাঁটি সরিষার তেল। এই তেল নিয়মিত চুলে মালিশ করলে চুলের ফলিকল মজবুত হয়। যার ফলশ্রুতিতে, চুল পড়ার সমস্যা রোধ হয়। কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত এই অভ্যাস চর্চা করলে নিজেই দেখতে পাবেন ফলাফল। 
বেড়ে ওঠাতে 
সরিষা তেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ইত্যাদি খনিজ উপাদান এবং ভিটামিন। এছাড়াও সরিষার তেলে জিঙ্ক, বিটা ক্যারোটিন ও সেলেনিয়াম যা চুল লম্বা হতে সাহায্য করে।
চুল লম্বা হচ্ছে দেরিতে? ব্যবহার করতে পারেন খাঁটি গাওয়া ঘি।
চুলে ভাল করে ঘি মেখে কিছুক্ষণ পরে আমলা বা পেঁয়াজের রস দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। এর পরদিন মাথায় শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। নিয়মিত ব্যবহারে চুল বেড়ে উঠবে আরো দ্রুত। 
চুলের মাস্ক ব্যবহারে
প্রাকৃতিকভাবেই মধু উজ্জ্বল লম্বা চুল পেতে সাহায্য করে। ঘরে মধুর মাস্ক তৈরি করতে তিন চামচ মধু গরম পানিতে দিয়ে তার সঙ্গে পেঁয়াজের রস মিশিয়ে নিন।
এরপর এই মাস্ক মাথার চুলে মেখে এক ঘন্টা অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পরবর্তীতে কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন। চুলের সুস্থতায় এই মাস্ক বেশ উপকারী।
খুশকি দূরীকরণে
খুশকি দূর করার জন্য সরিষার তেল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান থাকায় এই তেল চুলের খুশকি ও চুলকানি দূর করতে সক্ষম। 
অথবা মাথার  তালুতে ঘি দিয়ে মালিশ করতে পারেন। ১৫ মিনিট পর গোলাপজল দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত চর্চায় চুলের খুশকি দূর হবে।
চুলের আগা ফাটা দূর করতে
তিন চামচ ঘি নিয়ে চুলের আগায় ভালো করে লাগান। এবার ১৫ মিনিট পর চুল আঁচড়ে নিন। সবশেষে চুলে মাইল্ড শ্যাম্পু লাগিয়ে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 
কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত এই অভ্যাসে চুলের আগা ফাটার সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। 
চুলের চকচকে ভাব আনতে
ঘি আমাদের চুলে আলাদা একটা চকচকে ভাব আনতে সাহায্য করে। চুলে ঘি লাগিয়ে ২০ মিনিট পর লেবুর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 
চুলকে প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল করার আরেকটি সহজ উপায় হল মধু। এক টেবিল চামচ কাঁচা মধুর সাথে ছয় চামচ পানি ও এক চামচ দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে এক ঘণ্টা চুলে লাগিয়ে রাখতে পাড়েন। এই প্যাকটি সপ্তাহে একদিন অবশ্যই ব্যবহার করলে চুল চকচকে হবে। 
চুলের পরিচর্চার ক্ষেত্রে আমাদের সর্বদা খেয়াল রাখতে হবে যাতে আমরা মানসম্মত দ্রব্যটাই সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করি। খাঁটি ও প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নিতে পারলে চুলের কোনো ক্ষতি হবে না আর একই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিস্তেজ চুলও ধীরে ধীরে পুনরোজ্জিবিত হয়ে ওঠবে। 
Please follow and like us: